গাইবান্ধার সাঘাটায় বাসর ঘরে ধর্ষণের শিকার নববধূ, কারাগারে স্বামী

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ওসমানেরপাড়া গ্রামে বাসর ঘরে নববধূ (১৮) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আসিফ মিয়া (২৫) সহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু আটকের ২৪ ঘণ্টা না যেতেই স্বামী ছাড়া বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে স্বামী আসিফ কারাগারে। আসিফ ওসমানেরপাড়া গ্রামের আসাদুল হকের ছেলে। এ ঘটনায় ওই নববধূর ভাই জাহিদুল ইসলাম আসিফের নাম উল্লেখসহ ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বাসর ঘরে যদি সত্যিই ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ ঘটে থাকে, তবে অন্য ছয়জনকে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো? আর যদি না ঘটে থাকে, তবে একজন স্বামী কীভাবে ধর্ষণের আসামি হন?
জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট বিয়ে হয় আসিফ মিয়ার সঙ্গে ওই তরুণীর। ২৮ আগস্ট বাসর ঘরেই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। ২৯ আগস্ট দুপুরে অসুস্থ অবস্থায় নববধূকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় আসিফসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু পরদিনই ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শুধু স্বামীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ ঘটনার পর পুলিশ তাড়াহুড়ো করে অন্যদের ছেড়ে কেন দিলো? তা রহস্যজনক। তাদের অভিযোগ, কোন প্রভাবশালী মহলের চাপে হয়তো মামলার কিছু অংশ আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুনওসমানেরপাড়া গ্রাামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুনেছি বাসর ঘরেই কয়েকজন মিলে ওই নববধূকে নির্যাতন চালিয়েছে। এখন যদি স্বামী ছাড়া সবাই ছাড়া পেয়ে যায়, তাহলে সত্যটা কোথায়?’ গাইবান্ধা জেলা বার’র জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, একজন স্বামীও যদি জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে সেটি ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
তবে এখানে যেহেতু ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ এর অভিযোগ আনা হয়েছে, তাই আটকৃকত অন্যদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদশা আলম বলেন, মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন