ভিডিও সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

সাদাকাতুল ফিতরা সমাচার

সাদাকাতুল ফিতরা সমাচার

সাদাকাহ অর্থাৎ দান; ফিতরা অর্থ এক মাস রোজা রাখার পর রোজা ভাঙা। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে রোজা ভাঙা উপলক্ষে গরীব-মিসকিনকে যা দান করা হয়, তাই সাদাকাতুল ফিতরা। সাদাকাতুল ফিতরা কার উপর ওয়াজিব? যাকাত, কুরবানী ও সাদাকায়ে ফিতরার নিসাবের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলঃ যখন কোন ব্যক্তির কাছে একাধিক নিসাবের অংশ বিশেষ থাকে (অর্থাৎ কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা বা কিছু টাকা। অথবা শুধু স্বর্ণ, শুধু রূপা বা শুধু ক্যাশ টাকা)। কিন্তু কোনটি দিয়েই নিসাব পূর্ণ না হয়, এক্ষেত্রে যে কোন একটিকে নিসাব ধরে অন্য নিসাবী পণ্যের মূল্য হিসাবে আনা হয়। তখন যদি কোন একটি নিসাবের সমপরিমাণ মূল্যের নিসাব পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলেই তার উপর যাকাত, কুরবানী ও সাদাকায়ে ফিতরা আবশ্যক হয়ে যায়।

ফিতরা কখন আদায় করতে হবে? 
হাদীসের রেওয়ায়েত অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের নামাজে যাওয়ার আগেই ফিতরা গরীবদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে ফিতরা আদায়কারীর দায়িত্ব হচ্ছে গরীবদের কাছে ফিতরা পৌঁছে দেয়া। গরীব বা মিসকিনরা ফিতরার টাকা নেয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরবে না। ফিতরা আদায়কারীকে গরীবের বাড়ি যেতে হবে তার দায়িত্ব পালন করার জন্য। তাই খেয়াল রাখতে হবে ফিতরা যেন ঈদের নামাজের পর আদায় করতে না হয়। ফিতরা গ্রহণকারী তা নিতে আসার পরে তাকে ফিতরা দেওয়া সুন্নাহের খিলাফ।

ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করার বর্ণনা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। একই সাথে এমন কিছু রেওয়ায়েতও পাওয়া যায় যেখানে দেখা যায় সাহাবীরা রাদিয়াল্লাহু আনহুম ঈদের ২-১ দিন আগেও ফিতরা আদায় করেছেন। তাই আমরা চাইলে ঈদের ২-১ দিন আগে ফিতরা আদায় করে দিতে পারি। যেন যাকে দেওয়া হচ্ছে সে ২-১ দিন আগে থেকেই ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারেন। যদি টাকা দেওয়া হয় তাহলে ঈদের ২-১ দিন আগে দেওয়া। কারণ, বেশি আগে দিলে সে আবার অন্য কোনো কাজেও খরচ করে ফেলতে পারে। ফলে ঐ ব্যক্তির পরিবারের লোকজন হয়ত ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই বেশি আগে টাকা না দেওয়াই ভাল। খাদ্যদ্রব্য দিলেও তা ঈদের অনেক দিন আগে না দেওয়াই ভালো। তাই এমন একটি সময়ে আমাদের এগুলো আদায় করা উচিত যাতে যাকে দেওয়া হচ্ছে সে সেগুলো ঈদের দিনে কাজে লাগাতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সূত্র অনুযায়ী এ বছরের ফিতরার পরিমাণ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এবার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির যেকোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজারমূল্য ফিতরা হিসেবে বিতরণ করতে পারবেন। গম বা আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১১০ টাকা প্রদান করতে হবে। যব দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ৫৩০ টাকা প্রদান করতে হবে।

খেজুর দিয়ে ফিতরা আদায় করল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ২,৩১০ টাকা প্রদান করতে হবে। কিশমিশ দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১,৯৮০ টাকা প্রদান করতে হবে। পনির দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ২,৮০৫ টাকা প্রদান করতে হবে। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনিরের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ওই পণ্যগুলোর যেকোনো একটি পণ্য বা তার বাজারমূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতরা আদায় করতে পারবেন। এই পণ্যগুলোর স্থানীয় খুচরা বাজারমূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে চলার তাওফিক দান করুন, আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব কর্তব্য সঠিকভাবে পালনের তাওফিক দান করুন, এই রমাদানকে আমাদের নাজাতের উসিলা করে দিন, আমিন। জাযাকুমুল্লাহ।

 

মুফতি খ. আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ

লেখক : প্রাবন্ধিক ও ইসলামী গবেষক

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজশাহীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

বিয়ের পর প্রথম ঈদ, কি করবেন জানালেন মেহজাবীন-রাজীব

‘অনেকের ঘরেই আজ ঈদের আনন্দ নেই, জুলাই-আগস্টের হত্যাকারীদের বিচার হতেই হবে’

উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাবার ওপর হামলা

জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরলেন শর্মিলা রহমান