বগুড়া জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন
জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে নারীরা সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবেন : রফিকুল ইসলাম খান

স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াত নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামীকাল নির্বাচন হলেও জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত রয়েছে। তবে, তার আগে গণহত্যার বিচার, মৌলিক সংস্কার এবং প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এটা না করে যেনেতেন ভাবে একটা নির্বাচন জনগণ চায় না।
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে বগুড়া জেলা জামায়াতের ষান্মাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াতে ইসলামী সকল ইসলামি দল এবং সমমনা-দেশপ্রেমিক দলকে সাথে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বৃহত্তর ঐক্য গড়ে হায়েনার কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টাকে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ বলতে শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি দলের পকেটে ঢুকে গেছে।
আমরা চাই মানুষের এই আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত হোক। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ যেমন কোন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনে পরাজিত হয়নি, তেমনি এই সরকারকে কোন একটি দল ক্ষমতায় বসায়নি। ড. ইউনূসের সরকার জনগণের সমর্থনে গঠিত হয়েছে। সুতরাং জনগণের হয়েই কাজ করতে হবে।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রহিম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
বক্তব্য রাখেন বগুড়া শহর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব দবিবুর রহমান, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আবু তাহের, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাছেদ, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম সরকার, শিবিরের পশ্চিম জেলা সভাপতি সাইয়েদ কুতুব ও পূর্ব জেলা সভাপতি জুবায়ের আহমেদ। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল বাছেত ও সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান।
আরও পড়ুনপ্রধান অতিথি আরও বলেন, জামায়াত কোন ব্যক্তি, পরিবার কিম্বা গোষ্ঠীর জন্য রাজনীতি করে না। আমরা দেশের মাটি ও মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমরা একটি সুখি, সমৃদ্ধশালী, মানবিক, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে চাঁদাবাজী, দুর্নীতি থাকবে না। জনগণ জামায়াতকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আমরা রাজা হবো না। জনগণের সেবক হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবো। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমানা রক্ষার আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবে জামায়াত।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে নারীরা তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবেন। ঘরে-বাইরে সবখানে তারা মর্যাদার আসনে থাকবেন। চাকরির ক্ষেত্রে অবারিত সুযোগ পাবেন তারা। অমুসলিম ভাই-বোনেরা তাদের পূর্ণ নাগিরক অধিকার ভোগ করবেন। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা কোন দিন অমুসলিমদের এক ইঞ্চি জায়গাও জবর দখল করেনি।
বরং যারা অমুসলিমদের ব্যবহার করে রাজনীতি করেছে এবং ভবিষ্যতে করতে চায় তারাই অমুসলিম ভাইবোনদের জায়গা-জমি দখল করেছে, লুট করেছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আগামী নির্বাচনে দেশের অমুসলিম ভোটাররা এর সমুচিত জবাব দিবে।
মন্তব্য করুন